আফ্রিকার দেশ সুদানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কলেরার প্রাদুর্ভাবে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশটির যুদ্ধকবলিত বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন অঞ্চলে গত মে মাস থেকে আরও ১ হাজার ১০২ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (১ জুলাই) জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই তথ্য জানিয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মাঝে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
গত মার্চ মাসে আগের দফার প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় সুদানজুড়ে তিন বছরের মধ্যে কলেরার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।
দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত কলেরার প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত ও সাড়ে ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রায়ই কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। আগে ভয়াবহ এই রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতি তিন বছর পর পর চক্রাকারভাবে ফিরে আসত বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর সুদান প্রধান ড. শিবলি সাহবানি।
কিন্তু বর্তমানে সংঘাত, যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমিত চিকিৎসা সামগ্রীর কারণে দেশটিকে প্রায় টানা প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী সপ্তাহগুলোতে সুদানে বর্ষা মৌসুম আরও তীব্র হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত ওই সময়ে লাখ লাখ মানুষের নিরাপদ পানির অভাব এবং বৃষ্টিতে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় কলেরার সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
চলতি সপ্তাহে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রেখার বিভাজন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সংঘাতপূর্ণ পশ্চিম কার্দোফান রাজ্যে সর্বশেষ এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে ঘোষণা দিয়েছে সুদানের সরকার।
উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় কার্দোফান অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও সহায়তাকারী বিভিন্ন সংস্থার যাতায়াত দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যে কারণে দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, প্রতিবেশি উত্তর কার্দোফানে প্রায় ৩০০ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এই প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই রাজ্যের রাজধানী আল-উবাইদে আরএসএফ প্রাণঘাতী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।
শহরের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলার কারণে ইতোমধ্যে জীবন রক্ষাকারী সুপেয় পানির সংকট তৈরি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার। একই সঙ্গে তিনি সেখানে ব্যাপক নৃশংসতার ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
যুদ্ধের তিন বছরে আফ্রিকার এই দেশটিতে ২ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে। দেশটির প্রায় সব হাসপাতাল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সাহবানি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ৪০ শতাংশ একেবারেই অকেজো হয়ে পড়েছে এবং বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ কেবল আংশিকভাবে সচল রয়েছে। এই কারণে তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার রোগীদের জন্য একেবারে সামান্য কিংবা অপর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: এএফপি
খুলনা গেজেট/এএজে

